Home / আমল / ইনশাআল্লাহ বলবো নাকি ইংশাআল্লাহ? জেনে নিন সঠিন কোনটি
ইংশাআল্লাহ্‌ নাকি ইনশাআল্লাহ্‌

ইনশাআল্লাহ বলবো নাকি ইংশাআল্লাহ? জেনে নিন সঠিন কোনটি

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর, যিনি সারা জাহানের প্রতিপালক। আল্লাহর প্রতি লাখো-কোটি শোকর গুজার করছি, প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ সাঃ এর প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করছি। আমরা প্রায়ই কথা বলার সময় চিন্তাই পরে যাই। ইংশাআল্লাহ্ বলবো‌ নাকি ইনশাআল্লাহ্‌ বাংলা তে সঠিক উচ্চারণ হলো, ইংশাআল্লাহ এবং ইংরেজীতে Ing Sha Allah বা IngShaAllah.

আল্লাহর প্রতি আবারো শোকর গুজার করছি কেননা! তিনি করোনা ভাইরাস নামক প্রলয়ংকারী মহামারীতেও আমাদের সুস্থ রেখেছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে  সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে জীবনযাপন করার তৌফিক দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ !

মুহতারাম, একজন মুসলিম হিসেবে আপনাকে, আমাকে, সবাইকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে! যে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা ব্যতীত গাছের একটি পাতাও কিন্তু নড়তে পারে না! তাই,  মুসলিম জীবনে আমরা কোনো কাজ ভবিষ্যতে করার ইচ্ছা পোষণ করলে প্রায়শ বলে থাকি! “আল্লাহ চাইলে আমি অমুক কাজটি সম্পাদন করব।” যার আরবী প্রতিশব্দটি হচ্ছে ( إِنْ شَاءَ ٱللَّٰهُ ) । উল্লেখ্য এই কথাটির মাধ্যমেই কিন্তু আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি আমাদের নির্ভরশীলতার বহিঃ প্রকাশ করে থাকি।

কেনো আমরা আমাদের প্রতিটি কাজে إِنْ شَاءَ ٱللَّٰهُ বলব? এর গুরুত্ব কি?

রাসুল সাঃ এর জীবনের একটি ছোট্ট ঘটনা তুলে ধরছি।

মক্কার মুশরিকরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে ইহুদীদের শিখানো কথা অনুযায়ী আসহাবে কাহ্‌ফ সম্পর্কে প্রশ্ন করে ? তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) “إِنْ شَاءَ ٱللَّٰهُ” না বলেই তাদের সাথে আগামীকাল তাদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার ওয়াদা করেছিলেন ।

আল্লাহর প্রিয় বন্ধুর সামান্য ক্রুটির জন্যেও আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুল সাঃ কে হুশিয়ার করা হয় । তাই আল্লাহর পক্ষ থেকে দীর্ঘ পনেরো দিন (১৫) পর্যন্ত কোন ওহী আগমন করেনি! রাসুলুল্লাহ (সাঃ) খুবই চিন্তিত হলেন । মুশরিকরা বিদ্রুপ ও উপহাসের সুযোগ পেল। দীর্ঘ পনেরো দিন বিরতির পর সুরা কাহ্‌ফ-এ মুশফিকেদের প্রশ্নের জবাব নাযিল হল! তখন এর সাথে হিদায়েতের জন্য এ দু ’ টি আয়াতও অবতীর্ণ হয় যা নীচে উল্লেখ করা হলঃ

১৮:২৩ وَ لَا تَقُوۡلَنَّ لِشَایۡءٍ اِنِّیۡ فَاعِلٌ ذٰلِکَ غَدًا

অর্থাৎ, আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেনই না যে , সেটি “আমি আগামী কাল করব”

১৮:২৪ اِلَّاۤ اَنۡ یَّشَآءَ اللّٰہُ ۫ وَ اذۡکُرۡ رَّبَّکَ اِذَا نَسِیۡتَ وَ قُلۡ عَسٰۤی اَنۡ یَّہۡدِیَنِ رَبِّیۡ لِاَقۡرَبَ مِنۡ ہٰذَا رَشَدًا

অর্থাৎ, “আল্লাহ ইচ্ছা করলে” বলা ব্যতিরেকে । যখন ভুলে যান , তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন এবং বলুন! আশা করি আমার পালনকর্তা আমাকে এর চাইতেও নিকটতম সত্যের পথনির্দেশ করবেন ।

(সুরা কাহ্‌ফ, আয়াত ২৩-২৪)

ভবিষ্যতে কোন কাজ করার কথা বলা হলে ইনশাআল্লাহ্ বলে এ কথার স্বীকারোক্তি করা উচিত যে! প্রত্যেক কাজ আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল । এ আয়াত থেকে প্রথমত জানা গেল যে , এরূপ ক্ষেত্রে إِنْ شَاءَ ٱللَّٰهُ বলা মুস্তাহাব! দ্বিতীয়ত, যদি ভুলক্রমে বাক্যটি না বলা হয় , তবে যখনই স্মরণ হয় , তখনই তা বলা দরকার ।

 

ইংশাআল্লাহ্ নাকি ইনশাআল্লাহ্‌?

আমরা প্রায়ই সোশাল মিডিয়ায় কারো সাথে চ্যাটিং করতে গেলে, বা কমেন্ট করতে গেলে! বা নিজেরই কোনো পোষ্টে إِنْ شَاءَ ٱللَّٰهُ, কিংবা ইনশাআল্লাহ বা ইনশা আল্লাহ অথবা ইংরেজী তে InShaAllah বা In Sha Allah লিখে থাকি। কিন্তু বাংলা তে সঠিক উচ্চারণ হলো,  ইংশাআল্লাহ এবং ইংরেজীতে Ing Sha Allah বা IngShaAllah. ইংশাআল্লাহ্ নাকি ইনশাআল্লাহ্‌ এই কনফিউশন শেষ হবে আজকে।

কেনো ইংশাআল্লাহ বলা সঠিক, কেনো অন্য গুলো বলা সঠিক নয়? আসুন জেনে নিচ্ছি… 

মুহতারাম, আমরা জানি মহাগ্রন্থ আল কোরআন এর ভাষা আরবী। তাই আমাদেরকে আরবী ভাষার বানান, উচ্চারণ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। নাহয় ভুল বানান লিখে কিংবা ভুল উচ্চারণ করে আসল অর্থই পরিবর্তন করা হয়ে যাবে।

যেমন, আমরা যদি সুরা ইখলাস এর প্রথম আয়াতের কথাই ধরি, 

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

উচ্চারণঃ ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ।

অর্থঃ বলুন, আল্লাহ এক। 

কিন্তু এখানে যদি আমরা ق (ক্বফ) হরফকে ك (কা্‌ফ) এর মত করে উচ্চারণ করি! তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায়, “খাও, আল্লাহ এক” (নাউজুবিল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ !)

মুহতারাম, আশা করি বুঝে গিয়েছেন, কেন শুদ্ধ ভাবে আরবী উচ্চারণ করা জরুরী।

আমরা অনেকেই হয়ত ছোটবেলায় মাদরাসার মক্তব বা নুরানী বিভাগে পড়েছি যে,

তাজবীদ এর নিয়মানুসারে নুন সাকিন ও তানভীন এর পরে ইখফার ১৫টি হরফের যেকোনো একটি হরফ থাকলে নুন সাকিন ও তানভীন কে নাকের ভেতর লুকিয়ে বা ইখফা করে গুন্নাহর সাথে পড়তে বা উচ্চারণ করতে হয়।

যেমনঃ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ (উচ্চারণ হওয়ার কথা, মিন – শাররি কিন্তু হচ্ছে মিং – শাররি) , إِنْ شَاءَ (উচ্চারণ হওয়ার কথা, ইনশা, কিন্তু হচ্ছে ইং – শা) ,  فَلَنْ تَجِدَ (উচ্চারণ হওয়ার কথা, ফালান তাজিদা, কিন্তু হচ্ছে ফালাং – তাজিদা)

উল্লেখ্য, ইখফার ১৫টি হরফ হলোঃ

ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك

আশা করছি, আজ এখন থেকে আপনি সবসময় ইনশাআল্লাহ্‌ বা In Sha Allah বলার বা লেখার পরিবর্তে। সবসময় ইংশাআল্লাহ্ বা Ing Sha Allah বলবেন বা লিখবেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকল ভুল গুলোকে ক্ষমা করে দিয়ে আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন, আমিন।

এমন আরও প্রশ্ন সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন আমাদের প্রশ্নোত্তর ক্যাটেগরি। 

 

Check Also

ভাগ্য বলতে কিভাবে পরিবর্তন করা যায়

ভাগ্য বলতে কিছু আছে ? কিভাবে ভাগ্যের পরিবর্তন করা যায় ?

ভাগ্য বলতে যে কিছু আছে অনেকেই সেই বিষয়টা মানতে চান না রিসেন্ট সার্ভে তে দেখা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.