Home / নামায / নামাযের রুকন বা ফরজ সমূহ। যেগুলো বাদ গেলে নামায হবেনা
নামাযের সালাতের রুকন ফরজ

নামাযের রুকন বা ফরজ সমূহ। যেগুলো বাদ গেলে নামায হবেনা

নিশ্চয় নামায সর্বোৎকৃষ্ট ইবাদত। শুধু তাই নয় সালাত বা নামাযকে বলা হয় বেহেস্তের চাবি। তাই আমাদের নামায আদায়ের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া এবং সঠিক জ্ঞান রাখা প্রয়োজন। নামায সহিহ্‌ বা শুদ্ধ হওয়ার কতগুলো শর্ত বা ফরজ রয়েছে। নামাযের এই ফরজকে রুকনও বলা হয়। অনেকের জানতে চায় নামাযের ফরজ কয়টি ? আজকে আমরা সেই নামাযের / সালাতের ফরজ বা রুকন সমূহ সম্পর্কে আলোচনা করব। 

নামাযের মোট ১৪ টি ফরজ বা রুকন রয়েছে। যেগুলোর কোন একটা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত আদায় না করলে নামায বাতিল হয়ে যাবে ! নামাযের রুকন বা ফরজগুলোকে আবার দুটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে।

প্রথমত নামাযের পূর্বে প্রস্তুতিমূলক ফরজ ৭ টি। এগুলোকে নামাযের আহকাম বলা হয়।

  1. শরীর পবিত্র হওয়া।
  2. পরিধানের কাপড় পবিত্র হওয়া।
  3. নামাযের স্থান পবিত্র হওয়া। কমপক্ষে দাঁড়ানোর জায়গা থেকে সিজদার জায়গা পর্যন্ত পবিত্র হতে হবে। 
  4. সতর ঢাকা। পুরুষের নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত। এবং নারীদের মুখমন্ডল, দুই হাতের কব্জি, পায়ের পাতা ছাড়া সমস্ত শরীর ঢাকা।
  5. কিবলামুখী হওয়া। কিবলামুখী হয়ে নামায আদায় করতে হবে। কিবলা অজানা অবস্থায় নিজের প্রবল ধারনা অনুযায়ী কিবলা নির্ধারণ করে নামায আদায় করবে।
  6. নামাযের সময় হওয়া।
  7. নিয়ত করা। যে ওয়াক্তের নামায আদায় করবে।  মনে মনে সেই ওয়াক্তের ওয়াক্তের নামাযের নিয়ত করা। প্রত্যকে নিজ নিজ ভাষায় নিয়ত করতে পারবে। 
আবার নামাযের বা সালাতের ভীতর ৭ টি ফরজ বা রুকন রয়েছে। এগুলোকে আরকান বলা হয়।
  1. তাকবিরে তাহরিমাঃ আল্লাহু আকবর বলে নামায আরম্ভ করা।
  2. দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা। দাঁড়াতে অক্ষম হলে বসে এবং বসতে অক্ষম হলে। শুয়ে ইশারায় নামায আদায় করতে হবে। 
  3. সূরা বা আয়াত তিলাওয়াত করা। 
  4.  রুকু করা।
  5. সিজদাহ্‌ করা।
  6. শেষ বৈঠকঃ যে বৈঠকের মাঝে তাশাহ্‌হুদ, দরুদ অ দোয়া মাসূরা পড়ে। সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করা হয় তাকেই শেষ বৈঠক বলে।
  7. সালামের মাধ্যমে নামায থেকে বের হওয়া। 

রুকন বা ফরজ বাদ পড়লে করনীয়ঃ
ইচ্ছাকৃত কোন ফরজ বাদ দিলে নামায বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় তা আদায় করতে হবে।

অনিচ্ছাকৃত বা ভুলবশত বাদ পড়লে তার এর দুই অবস্থা হতে পারেঃ

ক) যদি ভুলবশত প্রথম রাকআতে কোন রুকন বাদ পড়ে এবং দ্বিতীয় রাকআতে উক্ত রুকন আদায়ের সময় মনে পরে।   তাহলে প্রথম রাকআত বাতিল বলে গণ্য হবে। এবং দ্বিতীয় রাকআত থেকে নামায প্রথম রাকআত হিসেব করতে হবে। এর জন্য সাহু সিজদাহ্‌ বা সিজদায়ে সাহু দিতে হবে।

উদাহরণঃ এক ব্যক্তি  দ্বিতীয় রাকআতে রুকু করার সময় মনে পড়ল। প্রথম রাকআতে রুকু করতে ভুলে গেছেন ! তাহলে এই রাকআতকে প্রথম রাকআত হিসেবে ধরবে এবং আগের রাকআত বাতিল বলে গণ্য হবে।

খ) আর যদি দ্বিতীয় রাকআতে উক্ত রুকনে যাওয়ার পূর্বেই স্মরণ করতে পারেন। তাহলে স্মরণ হওয়া মাত্রই উক্ত রুকনটি আদায় করে নিতে হবে।

উদাহরনঃ এক ব্যাক্তি সিজদাহ্‌ করা অবস্থায় তার মনে পড়ল সে রুকু করেনাই ! এমন অবস্থায় সাথে সাথে দাঁড়িয়ে রুকু করবে তারপর অবশিষ্ট নামায আদায় করবে।

তথ্যসুত্রঃ ইসলাম শিক্ষা বই ষষ্ঠ শ্রেণি

 উপরে নামাযের ফরজ বা রুকন সমূহ সম্পর্কে খুব সুন্দরভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন আমাদের এই পোস্টে। নামাযের ওয়াজিব সমূহ এবং সালাতের সুন্নত সমূহ জেনে নিন এখান থেকে।

কোন ভুলত্রুটি থাকলে অবশ্যই ধরিয়ে দিবেন এবং কোন মতামত থাকলে কমেন্ট করুন। 

Check Also

ভাগ্য বলতে কিভাবে পরিবর্তন করা যায়

ভাগ্য বলতে কিছু আছে ? কিভাবে ভাগ্যের পরিবর্তন করা যায় ?

ভাগ্য বলতে যে কিছু আছে অনেকেই সেই বিষয়টা মানতে চান না রিসেন্ট সার্ভে তে দেখা …