Home / অন্যান্য / সূরা ফাতিহার বাংলা অর্থ ও ব্যাখ্যা জানলে অবাক হবেন
ফাতিহার বাংলা অর্থ ব্যাখ্যা

সূরা ফাতিহার বাংলা অর্থ ও ব্যাখ্যা জানলে অবাক হবেন

সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব আল কোরআন। আর সেই আল কোরআনের ১১৪টি সূরার মাঝে সর্বপ্রথম সূরা হচ্ছে সূরা ফাতিহা যার উপর ভিত্তি করে সমস্ত কোরআনের ব্যাখ্যা রয়েছে। ফাতিহার বাংলা অর্থ আরম্ভ বা শুরু,যেহেতু কোরআন সূরা ফাতিহা দিয়ে শুরু হয়েছে, তাই কোরআনকে “ফাতিহাতুল কিতাব” বলা হয়।

সূরা ফাতিহাকে “উম্মুল কোরআন” বা কোরআনের মা বলা হয়ে থাকে। কারন সমস্ত কোরআন শরীফের সারমর্ম সূরা ফাতিহায় রয়েছে এবং সমস্ত কোরআনে সূরা ফাতিহার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাই সূরা ফাতিহাকে কোরআনের মা বলা হয়।

আজকে আমরা জানব এই সূরা ফাতিহার বাংলা অনুবাদ এবং তার সুন্দর মহিমা সম্পর্কে।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহির রহমা-নির রহি-ম।
অনুবাদঃ শুরু করিতেছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়
, অতি দয়ালু।

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণঃ আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আ -লামি-ন।
অনুবাদঃ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা
আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণঃ আররহমা-নির রাহি-ম।
অনুবাদঃ যিনি অত্যন্ত মেহেরবান ও দয়ালু।

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ

উচ্চারণঃ মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন।
অনুবাদঃ বিচার দিনের একমাত্র অধিপতি।

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

উচ্চারণঃ ইয়্যা-কা নাবুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাসতাই’-
অনুবাদঃ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।

 

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

উচ্চারণঃ ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকি’-
অনুবাদঃ আমাদের সরল পথ দেখাও।

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ

উচ্চারণঃ সিরাতাল্লা যি-না আনআমতা আলাইহিম।
অনুবাদঃ সে সমস্ত লোকের পথ
, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ।

غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

উচ্চারণঃ গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালা দ্দ-ল্লি-ন।
অনুবাদঃ তাদের পথ নয়
, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

সূরায়ে ফাতিহায় রয়েছে মহিমাময় ৭টি বাণী বা আয়াত।

আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এই ৭টি আয়াতের মাঝে অনেক কিছু খুজে পাব যা আমাদের আল কোরআন সম্পর্কে ধারনা পাল্টে দিবে।

আমরা যদি ৭ কে ২ ভাগে ভাগ করি তাহলে ৩,৩ করে ছয় হয় বাকি থাকে ১টি আয়াত। এখন যদি প্রথমের ৩ আয়াতকে আলাদা করি এবং মাঝের তিন আয়াতকে আলাদা করি তাহলে যা লক্ষ্য করব তা হচ্ছে এমনঃ প্রথম তিন আয়াতের দিকে নজর দেই “যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা; যিনি অত্যন্ত মেহেরবান ও দয়ালু; বিচার দিনের একমাত্র অধিপতি” উক্ত আয়াতগুলোত আল্লাহ্‌ তায়ালা নিজের সম্পর্কে বলেছেন এবং শেষের তিন আয়াতে “আমাদের সরল পথ দেখাও; সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ; তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে;” উক্ত তিন আয়াতে আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে।

এখন আসি মাঝের আয়াতে, মাঝখানের আয়াতে ২টা অংশ রয়েছে যেটাকে আমরা ২ ভাগে ভাগ করতে পারি। “আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।“ যদি এই অংশকে ২ ভাগে ভাগ করে যথাক্রমে প্রথমের ৩ আয়াত ও শেষের তিন আয়াতের সাথে জুড়ে দেই তাহলে অবাক করা বিষয়টি লক্ষ্য করতে পারব। যেমনঃ

আমরা কার ইবাদত করি ? => আল্লাহ তাআলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।

আমরা কার ইবাদত করি ? => যিনি অত্যন্ত মেহেরবান ও দয়ালু।

আমরা কার ইবাদত করি ? => বিচার দিনের একমাত্র অধিপতি।

আবার যদি পরের অংশটুকুর সাথে শেষের তিন আয়াত জুড়ে দেই তাহলে এমন হবেঃ

আমরা কিসের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি ? => আমাদের সরল পথ দেখাও।

আমরা কিসের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি ? => সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ।

আমরা কিসের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করি ? => তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

উক্ত সূরা ফাতিহার বিবরণ থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে এত সুন্দর সাবলীল ভাষায় এত সুন্দর সাহিত্য রচনা আল্লাহ্‌ ব্যতীত কারও দ্বারা সম্ভব নয়। আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের বাংলা অর্থ ও ব্যাখ্যা সহ বেশি বেশি কোরআন পড়ার তোফিক দান করুন। আমীন। ইসলামিক বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর দেখুন এখান থেকে। 

ক্রেডিটঃ প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ থেকে নেওয়া। 

Check Also

ইলমুদ্দিন

ইলমুদ্দিন

ইলমুদ্দিনের ছেলেবেলাঃ ইলমুদ্দিন তৎকালীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা একজন মুসলিম। ইলমুদ্দিন ৪ঠা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.