Home / আমল / নামাযের শেষে পড়ার দোয়া যেগুলো আপনার জানা প্রয়োজন
নামাযের শেষে পড়ার দোয়া

নামাযের শেষে পড়ার দোয়া যেগুলো আপনার জানা প্রয়োজন

সালাতের শেষে পড়ার দোয়া : প্রত্যেক ফরয নামাযের শেষে ইমাম, মক্তাদি! এবং একাকী নামায আদায়কারী প্রত্যেকেই তিনবার أَسْتَغْفِرُ اللهَ আস্তাগফিরুল্লাহ (আমি আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাই) পড়বেন, এটি পড়া সুন্নত এবং এরপর পড়বেনঃ

 اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ، وَمِنْكَ السَّلاَمُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالْإِكْرَامِ

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা আনতাস্ সালা-মু ওয়া মিনকাস্ সালা-মু তাবা-রক্তা ইয়া যালজালা-লি ওয়াল-ইকরা-ম।

অনুবাদঃ হে আল্লাহ! কেবল আপনিই সকল ভুল-ত্রুটি এবং দুর্বলতা থেকে মুক্ত। আপনার কাছ থেকেই সমস্ত শান্তি বর্ষিত হয়। হে পরাক্রম ক্ষমতা ও ইহসানের অধিকারী! আপনি মহান হোন।

এরপর ইমাম সাহেব মুসুল্লিগণের দিকে মুখ করে বসবেন এবং পড়বেনঃ

لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَلاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ, لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الكَافِرُونَ. اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ

উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়ালা না‘বুদু ইল্লা ইয়্যাহু। লাহুন নি‘মাতু ওয়া লাহুল ফাদলু, ওয়া লাহুসসানাউল হাসান। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদ-দীন ওয়া লাও কারিহাল কাফিরূন। আল্লা-হুম্মা লা মানি‘আ লিমা আ‘তাইতা, ওয়ালা মু‘তিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যালজাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।

অনুবাদঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব মাবুদ নেই। তাহার কোনো শরীক নেই।সমস্ত রাজত্ব তাহারই। সমস্ত প্রশংসাও তাহার। আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (কোন রকম পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব মাবুদ নেই। আমরা কেবল তাহারই ইবাদত করি।সমস্ত নেয়ামতসমূহ তাহারই, যাবতীয় অনুগ্রহও তাহার এবং উত্তম প্রশংসা তাহারই। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব মাবুদ নেই। আমরা তাহার দেওয়া দীনকে একনিষ্ঠভাবে মান্য করি, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। হে আল্লাহ, আপনি যা দিয়েছেন করেছেন তা বন্ধ করার কেউ নেই। আর আপনি যা বন্ধ করেছেন তা দেওয়ার কেউ নেই। আর যে কোনো প্রকার ক্ষমতা-প্রতিপত্তির অধিকারীর ক্ষমতা! এবং প্রতিপত্তি আপনার কাছে কোনো কাজে আসবে না।

ফজর এবং মাগরিবের নামাযের পর উপরোক্ত দোয়াগুলোর সাথে এই দোয়াটি আরও ১০ বার  পড়বেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ইয়ুহ্‌য়ী ওয়াইয়ূমীতু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর

অনুবাদঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব মাবুদ নেই। তাহার কোনো শরীক নেই! সমস্ত রাজত্ব তাহারই এবং সকল প্রশংসা তাহার। তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন। আর তিনি সমস্ত কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

এরপর প্রত্যেকটি ৩৩ বার করে পড়বেনঃ

سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ

উচ্চারণঃ সুবহা-নাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার।

অনুবাদঃ আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ মহান।

এই তিনটি মিলিয়ে ৯৯ বার হলে একশতম বারে পড়বেনঃ

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।

অনুবাদঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব মাবুদ নাই। তাহার কোনো শরীক নাই সমস্ত রাজত্ব তাহারই। সমস্ত প্রশংসাও তাহার। আর তিনি সমস্ত কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে! নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যামানায় লোকেরা ফরয নামায শেষ করে উচ্চস্বরে যিকির পড়তেন! হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যেঃ “যিকির শুনে আমি বুঝতাম যে, তাহারা নামায শেষ করিয়াছেন।“

ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারীর ক্ষেত্রে সুন্নাহ হচ্ছে- প্রত্যেক ফরয নামাযের শেষে এ যিকিরগুলো মধ্যম মানের উচ্চস্বরে পড়া; যাতে কোন কৃত্রিমতা থাকবে না! প্রত্যেক ফরজ নামায শেষে ইমাম এবং একাকী নামায আদায়কারীর ক্ষেত্রে উচ্চস্বরে যিকির পড়ার প্রচলন ছিল যা সুন্নত। এবং এইভাবে পড়লে কোন প্রকার কৃত্রিমতা থাকেনা।

শরিয়তে সম্মিলিত যিকির করা বিদাত এর কোন ভিত্তি নেই। তাই এই যিকির গুলো একসাথে না পড়ে প্রত্যেকে আলাদা আলাদাভাবে পড়বেন।

এরপর আরও কিছু আমল রয়েছে যেমনঃ ইমাম এবং মুক্তাদি আয়াতুল কুরসি পড়বেন। তারপর আরও পড়তে পারেন সূরায়ে ইখলাস, সূরা নাস এবং সূরা ফালাক এইগুলা চুপে চুপে ফজর এবং মাগরিবের সালাতের পর তিনবার করে পড়বেন।

সহিহ সনদের যেভাবে উল্লেখ রয়েছে আমরা ঠিক সেইভাবেই উল্লেখ করেছি। সুতরাং এইভাবে যিকির করাই উত্তম।

আমাদের সকলকে নামাযের শেষে পড়ার দোয়া টির উপর আমল করার তৌফিক দান করুন, আমীন! নামাযের ফরজ ওয়াজিব সুন্নত এবং আরও বিস্তারিত জানতে দেখে আসুন আমাদের নাময ক্যাটেগরির পোস্টগুলো। এমন আরও যেকোন দোয়া জানতে আমাদের মেসেজ করুন। 

Check Also

ভাগ্য বলতে কিভাবে পরিবর্তন করা যায়

ভাগ্য বলতে কিছু আছে ? কিভাবে ভাগ্যের পরিবর্তন করা যায় ?

ভাগ্য বলতে যে কিছু আছে অনেকেই সেই বিষয়টা মানতে চান না রিসেন্ট সার্ভে তে দেখা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *