Home / অন্যান্য / পড়াশোনায় মনযোগ বসানোর কয়েকটি সহজ বৈজ্ঞানিক টিপস
পড়াশোনায় মনযোগী হওয়ার উপায়
পড়াশোনায় মনযোগী হওয়ার উপায়

পড়াশোনায় মনযোগ বসানোর কয়েকটি সহজ বৈজ্ঞানিক টিপস

ডিজিটাল এই যোগে পড়াশোনা হয়ে উঠেছে অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষেরই পড়াশোনায় মন বসেনা! আজকের পোস্টে আমরা পড়াশোনায় মনযোগ বসানোর কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিক উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব! এগুলো অনুসরণ করলে, আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

১. লক্ষ্য স্থির করা পড়াশোনার মনযোগ বাড়ায় 

আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই পড়াশোনায় মনযোগ না বসার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে কেন পড়ছি ? এই বিষয়টা তাদের কাছে পরিষ্কার না তারা জানেন না আসলে তারা কেন পড়বেন! ধরুন, আপনি বাসা থেকে হাটতে বের হলেন, কিন্তু আপনি জানেন না আপনি কেন হাটবেন বা হাটলে কি লাভ হবে! তাহলে, আপনি খুব বড়জোর দুই-তিন দিন হাটার পর আপনি আর হাঁটতে পারবেন না! কারণ, আপনি জানেনই না আপনি কেন হাঁটছেন। পড়াশোনাও ঠিক এমনি,আপনি কেন পড়ছেন পড়ালেখা করে আপনি কি করতে চান ? সেই লক্ষ্য আগে ঠিক করে নিন! উদ্দেশ্যহীন ভাবে যদি আপনি একটি বল ছুড়েন সেই বল যেমন গোল পোস্টে ঢুকবে না বা কাঙ্ক্ষিত যায়গায় যাবেনা ঠিক! একইভাবে উদ্দেশ্যহীন পড়ালেখায় মন বসবে না এটাই স্বাভাবিক।

২. টেবিলে বসার অভ্যাস করা এতে অধিক সময় পড়া যায়

নোবেল বিজয়ী একজন লেখকও যখন প্রথম তার লেখার জীবন শুরু করেন! তখন তিনি টেবিলে ৬-৭ ঘণ্টা বসে থাকার পরও কোন লেখা লিখতে পারতেন না। কিন্তু, তার জন্য তিনি টেবিলে বসা বাদ দেন নি, তাই একটা সময় এসে তিনি ঠিকিই লিখতে পেরেছিলেন। আপনারাও টেবিলে বসার অভ্যাস তৈরি করুন, পড়ায় মন বসুক বা না বসুক তারপরও বসে থাকেন। এভাবে বসে থাকতে থাকতে একটা সময় এসে আপনারও পড়ায় মন বসবে।

অনেকে বিছানায় কিংবা সোফায় শুয়ে শুয়ে পড়েন। এটা খুবই বাজে অভ্যাস এটা একেবারে বাদ দিতে হবে! এতে কিছুক্ষণ পড়ার পরই ঘুমের ভাব চলে আসে এবং ঐখানেই আপনার পড়া শেষ হয়ে যায়। তাই আপনাকে অবশ্যই টেবিলে পড়ার অভ্যাস করতে হবে। টেবিলে যখন পড়তে বসবেন পড়ার সব জিনিস নিয়ে পড়তে বসবেন। পড়ার সময় হঠাৎ মনে পড়ল, আরে আমি তো কলম নেয়নি বা খাতা নেয়নি এতে বারবার পড়ার টেবিল থেকে উঠার কারনে পড়ার মনযোগ নষ্ট হবে।

৩. রুটিন করে পড়া

তারপর পড়াশোনার মনযোগ বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল রুটিন করে পড়া। অনেকে বলেন একদিন পড়লে অন্য দিন আর পড়তে মন চায় না অথবা কি পড়বেন তা ভেবেই সময় চলে যায় এবং ভেবে পায়না। এর জন্য রুটিন করে পড়া একান্ত প্রয়োজন এক গবেষণায় দেখা গেছে, রুটিন-বিহীন মানুষ সফলতার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে থাকে। রুটিন ছাড়া পৃথিবীর কোন কিছুই সংঘটিত হয় না যেমন, রুটিন মাফিক প্রতিদিন সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠে এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। ২৪ ঘন্টা পর পর দিন হয় এবং দিনের শেষে রাত নেমে আসে। এই পৃথিবীর সবকিছুই যেহেতু রুটিন মাফিক হচ্ছে আপনাকেও পড়াশোনা জন্য রুটিন করে করতে হবে।

এখন অনেকে জানতে চান কিভাবে পড়ার রুটিন করব? তাদেরকে বলব আপনার যেভাবে সুবিধা হয়! আপনি আপনার মত করে আপনার পড়ার একটা রুটিন কে সাজান। অবশ্যই পড়ার মাঝে অল্প সময়ের জন্য বিরতি দিবেন। কারণ, মানুষের ব্রেইন ৪৫ মিনিট এর বেশি মনোযোগ রাখতে পারে না। তাই, বিরতি দিয়ে দিয়ে পড়লে পড়াটা খুব তারাতারি আয়ত্তে আসে।

৪. টার্গেট বা মিশন নিয়ে পড়া

আমরা প্রায় সবাই গেমস খেলেছি সেখানে দেখা গিয়েছে, যে গেমস গুলাতে লেভেল বা মিশন থাকে ওই গেমসগুলো খেলতে একটু বেশিই মজা লাগে । এক লেভেল বা মিশন থেকে অন্য লেভেলে যায়, এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার চলে যায়। কোন বিরক্তি আসে না। ঠিক এই পড়াশোনাকেও যদি আমি গেমস এর মত বানাতে পারি তাহলে, অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারব।

৫. যখন মনোযোগ বসে তখন পড়া

পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের আচার, আচরণ, মন আলাদা প্রত্যেকেরই আলাদা রুচি। তাই যে সময় আপনার মনোযোগ বেশি থাকে আপনি সেই সময় পড়তে বসেন এতে কোন সমস্যা নাই। এখন যদি আপনি বলেন, আমি কোন সময়ই পড়ায় মনযোগ দিতে পারিনা, তাহলে আমি বলব বলব, আপনি পড়ার জন্য গভীর রাত অথবা সকালকে বেছে নিতে পারেন। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নীরব নিস্তব্ধ অবস্থায় পড়াশোনায় অধিক মনোযোগ দেওয়া যায়।

৬. ব্যায়াম বা খেলাধুলা করা

ব্যায়াম বা খেলাধুলা পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়িয়ে তুলতে খুবই কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। প্রত্যেকদিন অন্তত এক ঘণ্টা সময় ব্যায়াম অথবা খেলাধুলা করা প্রয়োজন। এতে মন উতফুল্য ও ফ্রেশ থাকে এবং পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হয়ে উঠা যায়। আর খেলাধুলা বা ব্যায়াম এর জন্য আপনি বিকেলের সময়টাকে নির্ধারণ করে নিতে পারেন। কারণ, বিকেলে পড়াশোনা না করা উত্তম।

৭. পর্যাপ্ত ঘুম

অনেকে রাত জেগে Facebook চালিয়ে কিংবা Youtube এ ভিডিও দেখে রাত কাটান এতে করে আপনার ঠিকমত ঘুম হয় না। ফলে আপনার ব্রেইন রিফ্রেশ হতে পারেনা আর এর প্রভাব আপনার পড়াশোনাও পরে। ফলে, আপনার পড়াশোনা করতে বিরক্ত লাগে। একজন স্বাভাবিক মানুষের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

ব্রেইনকে ঠাণ্ডা করতে দিনের ঘুমের চেয়ে রাতের ঘুম বেশি কার্যকরী। আপনার যদি মাথা ঠাণ্ডা না থাকে! তাহলে আপনি পড়াশোনা কেন কোন কাজেই মনযোগ দিতে পারবেন না। অতএব পর্যাপ্ত ঘুম পড়াশোনায় মনযোগ আনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৮. মাল্টি কাজ করা থেকে বিরত থাকা

কেউ যদি বলেন আমি একাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এবং ব্যবসায়ী সবকিছু হতে চাই এই কথাটি যেমন হাস্যকর ঠিক তেমনি পড়তে বসলে যদি আমরা একসাথে অনেক কাজ করার চেষ্টা করি তাহলে ঠিকঠাক কোনটাই করা হয়ে উঠে না। শুধু সময় নষ্ট হয়।আমরা অনেকই মোবাইল, কম্পিউটার, টিভির সামনে বসে পড়ি এতা না হয় পড়া না হয় ওইগুলা করা।

তাই যখন পড়তে বসবেন তখন মোবাইল, কম্পিউটার, টিভি একেবারে বন্ধ করে পড়তে বসেন! বা যে জায়গায় এগুলা আছে সে জায়গা থেকে একটু দূরে অন্য জায়গায় পড়তে বসেন! এতে পড়ার মনোযোগের পাশাপাশি পড়া তাড়াতাড়ি মুখস্থ হবে।

৯. খাবারের প্রতি সচেতন হন

পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পেছনে খাবার একটি দারুণ ভূমিকা রাখে! অনেকে ভাবতে পারেন একটু দামি খাবার খেলে যেমনঃ ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খেলে হয়ত বেশি মনোযোগ আসে। কিন্তু এই ধারনাটি একেবারেই ভুল! ফাস্টফুড জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করার জন্যই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন! তাহলে কি পড়শোনায় মনযোগী হওয়ার জন্য কি খাওয়া উচিত ?

ছোটবেলায় আমরা সবাই শুনেছিলাম, মিষ্টি খেলে ব্রেইন বাড়ে! এটা সত্য আসলেই, মিষ্টি জাতীয় খাবার আমাদের ব্রেইনকে সতেজ এবং সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তাই পড়শোনায় মনযোগী হতে মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পারেন, আর তার সাথে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি এবং সবুজ শাক- সবজি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে! এতে করে আপনার শরীরও সুস্থ থাকবে মনও ভালো থাকবে এবং পড়াশোনায় মন বসবে।

আরও এমন টিপস পেতে আমাদের অন্যান্য ক্যাটেগরি থেকে ঘুরে আসুন! এমন সকল পোস্টের আপডেট পেতে আমাদের ilmuddin – ইলমুদ্দিন ফেসবুক পেজে লাইক করুন।

Check Also

ইলমুদ্দিন

ইলমুদ্দিন

ইলমুদ্দিনের ছেলেবেলাঃ ইলমুদ্দিন তৎকালীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করা একজন মুসলিম। ইলমুদ্দিন ৪ঠা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *